ভারতের ওডিশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া পানামার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’-এর বাংলাদেশি মেরিনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের এখনো সন্ধান মেলেনি। তিনি জাহাজটির চতুর্থ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২২ আগস্ট জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মামুনসহ আরও ২১ নাবিক। তাদের উদ্ধারে ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত দুজন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন ১৯৯৪ সালের ২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল তিনি ‘এমভি ওশান উইনার’ জাহাজে যোগ দেন। তার নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামুনকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি কর্তৃপক্ষ ও জাহাজটির নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্ধার তৎপরতার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
ভারতীয় কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘এমভি ওশান উইনার’ ২০ আগস্ট ওডিশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লৌহ আকরিক নিয়ে যাত্রা করে। জাহাজটিতে চীনের ২০ জন, মিয়ানমারের তিনজন এবং বাংলাদেশের একজনসহ মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন। পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেটি ডুবে যায়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ভারতীয় কোস্টগার্ডের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (MRCC) উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কাছাকাছি থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি এইসোপস’-কেও অনুসন্ধানে যুক্ত করা হয়। পরে ওই জাহাজ দুটি লাইফর্যাফট থেকে দুজন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের পরিচয় তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর একাধিক জাহাজ নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে সমুদ্র এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। জাহাজটি ঠিক কী কারণে ডুবে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মামুনের সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে তার সহকর্মী ও বাংলাদেশি মেরিনাররা দ্রুত তাকে জীবিত উদ্ধারের আশায় রয়েছেন।
ইতি/
