, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

বড় প্রকল্পে পিপিপি বাস্তবায়নে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহৎ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ওয়াটার একাডেমির ‘ফ্লোয়িং ফরওয়ার্ড’ কর্মসূচির আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (২৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের একটি হোটেলে কর্মসূচিটির পিপিপি ট্র্যাকের কার্যক্রম শুরু হয়। কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের পিপিপি প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, সম্ভাব্যতা যাচাই, আর্থিক কাঠামো নির্ধারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করার দক্ষতা বাড়ানো।

ওয়ার্ল্ড ওয়াটার একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ‘ফ্লোয়িং ফরওয়ার্ড’ বাংলাদেশে পানি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি। এতে পিপিপির পাশাপাশি অবকাঠামোর সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনার সক্ষমতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচিটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা বাস্তব প্রকল্পকে ভিত্তি করে কাজ করবেন। এতে প্রকল্প বাছাই ও যাচাই, সম্ভাব্য ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি, অর্থায়নের ধরন নির্ধারণ, ঝুঁকি বণ্টন, বাজারসংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকল্পের প্রস্তাব উপস্থাপনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াটার একাডেমি জানিয়েছে, তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাস্তব প্রকল্পকে শেখার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করাই এ কর্মসূচির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ার্ল্ড ওয়াটার একাডেমির একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট—পতেঙ্গা ক্যাচমেন্ট-৬ এলাকা পরিদর্শন করে।

বাংলাদেশ সরকারের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং এটি বর্তমানে উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূলধনী ব্যয় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালের অক্টোবরে প্রকল্পটি নীতিগত অনুমোদন পায়।

ওয়ার্ল্ড ওয়াটার একাডেমির ভাষ্য অনুযায়ী, পিপিপি নিজে কোনো চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং জনসেবার দীর্ঘমেয়াদি মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। কোনো প্রকল্পে পিপিপি উপযোগী হলে সরকারি পক্ষকে চুক্তি, ঝুঁকি ও অংশীদারত্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম জানে আলম বলেন, ‘ফ্লোয়িং ফরওয়ার্ড’ কর্মসূচির পরবর্তী পর্যায়ে প্রশিক্ষণকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট কেস স্টাডি নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি প্রকল্প স্ক্রিনিং, বিজনেস কেস প্রস্তুত, আর্থিক কাঠামো, ঝুঁকি বণ্টন, বাজার সম্পৃক্ততা ও দরকষাকষির বিষয়ে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় পরিচালিত এ কর্মসূচি চট্টগ্রাম ওয়াসার পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষ্ণু কুমার সরকার, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আমিন, মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ও মো. নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার পিপিপি সক্ষমতা বৃদ্ধির এ উদ্যোগকে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং আধুনিক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত