, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 94%

ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানে ফলস ছাদ থেকে গ্রেপ্তার মোবারক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানের সময় ওয়াশরুমের ফলস ছাদে আত্মগোপন করেছিলেন মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলা কাটা মোবারক’। পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে শনাক্ত করার পর সেখান থেকেই পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি আটকে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোবারকের তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা হলেন মো. রায়হান, মো. ফরিদ ও মো. নাছির। তাঁদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও চার রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত অন্যরা হলেন ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আলম খান, পুলিশ কনস্টেবল মামুনুর রশিদ, শাহ নেওয়াজ ও সাদ্দাম হোসেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ধরা পড়েন মোবারক

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ির পাহাড়ি এলাকায় মোবারকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে পুলিশ। এরপর কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বাড়লে মোবারক লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকার পরিচিত একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে পুলিশ জানায়। মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়িটি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ভোরের দিকে লোহার দরজা ভেঙে পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করে।

বাড়িতে ঢোকার পর ওয়াশরুমের ফলস ছাদ থেকে প্রথমে মোবারকের কয়েকজন সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে একইভাবে মোবারকের অবস্থানও শনাক্ত করে অভিযানকারী দল।

পুলিশের ভাষ্য, সদস্যরা কক্ষে প্রবেশের পর মোবারক একটি পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়েন। তিনি ছয় রাউন্ড গুলি করেন এবং পুলিশ পাল্টা সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একটি গুলি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের কানের পাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর মোবারক আরও গুলি চালানোর চেষ্টা করলে অস্ত্রটি আটকে যায়। সেই সুযোগে পুলিশ তাঁকে ফলস ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ আরও জানায়, মোবারকের কাছ থেকে উদ্ধার করা পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর একটি বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

একাধিক মামলায় তদন্ত

পুলিশের দাবি, মোবারক চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও রাউজান এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যাসহ একাধিক ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও পুলিশের ওপর হামলার পৃথক মামলায় রিমান্ডের আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আদালত দুই মামলায় চার দিন করে মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্যদেরও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

মোবারক গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত