চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত ১৭টি ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব ভাটায় ইট পোড়ানো, জ্বালানি কাঠ ব্যবহার এবং কৃষিজমির ওপরের মাটি (টপসয়েল) সংগ্রহ করে ইট তৈরিতে ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় থাকা ইটভাটাগুলো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট মালিকদের হাতে বন্ধের নির্দেশসংবলিত নোটিশ দেওয়া হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান। এ সময় রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন এবং পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল ও চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ইটভাটা পরিচালনা করা যাবে না। বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনি ব্যবহারকারী ভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়া ১৭টি ইটভাটার মধ্যে রয়েছে—ইসলামপুরের মঘাইছড়ি এলাকার মেসার্স মক্কা মদিনা ব্রিক্স, শাহ আমানত ব্রিকস, আবদুল করিম ব্রিকস, সাদেক শাহ ব্রিকস, চট্টগ্রাম ব্রিকস, খাজা ব্রিকস অ্যান্ড ম্যানু., বিসমিল্লাহ ব্রিকস, বিসমিল্লাহ খাজা আজমির ব্রিকস ও আল মদিনা ব্রিকস।
এ ছাড়া রাজানগরের মধ্য ঘাগড়া এলাকার দরবার অ্যান্ড কোং, মাজার গেট এলাকার কাদেরিয়া ব্রিকস, বহড়াতল এলাকার বাগদাদ ম্যানু. ব্রিকস, উত্তর ঘাগড়ার হাজী আতর আলী ব্রিকস, তারাবুনিয়া এলাকার আজমির ব্রিকস, কর্ণফুলী ব্রিকস ম্যানু., কে এম ব্রিকস এবং হোসাইনুজ্জামান শাহ ব্রিকসকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন এবং পরিবেশ আদালত আইনের আওতায় অনুমোদনহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশ অমান্য করে কোনো ভাটা চালু রাখলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, মামলা দায়ের, ইট ও ভাটার সরঞ্জাম জব্দ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভাটা উচ্ছেদের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ নেই। নোটিশ দেওয়া ভাটাগুলোতে আগুন জ্বালানো, জ্বালানি কাঠ ব্যবহার কিংবা কৃষিজমির টপসয়েল দিয়ে ইট তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
তিনি বলেন, নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতি/
