চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় হিজড়া সম্প্রদায়ের ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া (৫২) হত্যার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার আগে রাতে তাঁর বাসায় এক অচেনা যুবকের প্রবেশ ও পরে বের হয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আমবাগান রেলওয়ে কলোনি-সংলগ্ন হিজড়া কলোনিতে নিজ বাসা থেকে মৌসুমীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, একটি কক্ষে খাটের ওপর তাঁর মরদেহ পড়ে ছিল। গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
ঘটনার পর মৌসুমীর গলায় থাকা সোনার চেইন, গরু বিক্রির চার লাখ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে খুলশী থানায় মামলা করা হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাতে এক যুবক মৌসুমীর বাসায় প্রবেশ করেন। মৌসুমী নিজেই তাঁকে দরজা খুলে দেন। কিছু সময় পর ওই যুবককে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতেও দেখা যায়। পুলিশের ধারণা, যুবকটি মৌসুমীর পরিচিত হতে পারেন। তবে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের কেউ এখনো তাঁকে শনাক্ত করতে পারেননি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মৌসুমীর বাসার পেছনে একটি গরুর খামার রয়েছে। সম্প্রতি গরু বিক্রি করে পাওয়া চার লাখ টাকা তাঁর কাছে ছিল। ওই অর্থের বিষয়টি জেনে কোনো পরিচিত ব্যক্তি সেখানে গিয়েছিলেন কি না, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
মৌসুমীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় চেইন নেওয়ার সময় টানাটানিতে আঘাত লেগেছিল, নাকি শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি অচেনা ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত এবং নিখোঁজ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।
ইতি/
