, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 63%

চট্টগ্রামে জামিনে মুক্তির পর ফের মাদক কারবারে জড়ানোর অভিযোগে একাধিক নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের কয়েকজন নারীর বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৪০ জন নারী রয়েছেন। তাঁদের কেউ খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রি করছেন, আবার কেউ মাদক পরিবহন ও অর্থ লেনদেনের কাজে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, মাদক কারবারের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের ব্যবহার করছে চক্রের সদস্যরা। বিশেষ করে খুচরা বিক্রি ও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজে তাঁদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই নগরের ফিশারিঘাটের ভেড়া মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুমা পারভীন শিমু নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বসতঘর থেকে ৪০টি ইয়াবা, ৫০ পুঁটলি গাঁজা এবং মাদক বিক্রির দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিমুর বিরুদ্ধে মাদক ও মানব পাচারসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর আগেও তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে মুক্তির পর আবারও মাদক কারবারে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নগরের আরেক নারী আকলিমার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ২০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ২০ বার কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এনায়েত বাজার ও গোয়ালপাড়া এলাকায় আকলিমা গাঁজা বিক্রি করেন। পুলিশ অভিযান চালালে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে আবারও একই কারবারে যুক্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এদিকে, গত ১৬ জুলাই নগরের ইপিজেড থানার হাসপাতাল গেট এলাকা থেকে শিরিন নামে এক নারীকে সাত কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, এলাকায় তিনি কাপড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। কাপড় ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের কাছে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, মাদক কারবারের চক্রে নারীদের একটি অংশকে বাহক ও খুচরা বিক্রেতা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে তাঁদের কেউ কেউ বড় মাদক কারবারিদের সঙ্গেও সম্পৃক্ত বলে তথ্য রয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। একাধিক মামলা থাকার পরও জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের গতিবিধি নিয়মিত নজরদারিতে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে কেউ কেউ পুরোনো নেটওয়ার্কে ফিরে যান বলে তাঁদের ধারণা।

অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, মাদক কারবারে নারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাও জড়িত। তাঁদের ভাষ্য, বড় কারবারিরা নারীদের তুলনামূলক কম সন্দেহের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাহক ও খুচরা বিক্রেতা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। একই ব্যক্তি বারবার গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তির পর মাদক কারবারে ফিরে গেলে শুধু তাঁকে গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করাও জরুরি। পাশাপাশি নজরদারি, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া গেলে মাদক চক্রে নারীদের পুনঃসম্পৃক্ততা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অনেক সময় নারীদের মাদক পরিবহনের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নগরীতে খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত অনেক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁদের কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত