, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 81%

বুলেট ট্রেনে এগোচ্ছে বাংলাদেশ? ইতিবাচক বার্তা চীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে উচ্চগতির রেল বা বুলেট ট্রেন চালুর সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে চীনের উচ্চগতির রেল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ খাতে বিনিয়োগেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে। উন্নয়ন, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দিতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি জানান, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম)–এর আওতায় যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আধুনিক উচ্চগতির রেল প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা গুরুত্ব পাচ্ছে। ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বুলেট ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত রেলপথ। প্রতিদিন এ রুটে হাজারো যাত্রী ও বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চগতির রেল চালু হলে রাজধানী ও বন্দরনগরীর মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।

তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশের তাজা কাঁঠাল রপ্তানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রটোকল স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে আমের পর দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালও চীনের বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এতে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

সেমিনারে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হলে অবকাঠামো, বাণিজ্য, কৃষি, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ইতি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত