
কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সৃষ্ট বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এ তিন খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮৮ কোটি টাকা। একই সঙ্গে এখনও প্রায় ৮২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে রয়েছে।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির বর্তমান হিসাব প্রাথমিক। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ শেষে আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান। বর্তমানে প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর আউশের জমি, প্রায় ৯ হাজার হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২০ হাজার হেক্টরের বেশি সবজির জমি পানির নিচে রয়েছে। তবে কৃষি খাতের আর্থিক ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
টানা বৃষ্টিতে দেশের ৪৩টি জেলা বন্যাকবলিত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ১৬টি জেলায়। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, হবিগঞ্জ, নওগাঁ, যশোর, মেহেরপুর, বাগেরহাট ও বরগুনা।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৪০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে। পানির তোড়ে ভেসে গেছে প্রায় ৩৪ হাজার মাছের খামার ও পুকুর, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৯টি মাছের ঘের এবং ৪৬টি মাছ ধরার নৌযান। এ ছাড়া বন্যার সময় পাঁচজন জেলের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও পশুখাদ্য মিলিয়ে এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮১ কোটি ৫ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪ হাজার ৮১৯টি গবাদিপশুর খামার। এছাড়া ছয় হাজারের বেশি হাঁস-মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আড়াই হাজারের বেশি মারা গেছে। প্রায় ১২ হাজার টন পশুখাদ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খড় ও ঘাসের খেত।
কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বন্যায় প্রায় ১০ শতাংশ আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৩ লাখ টন চালের উৎপাদন কমতে পারে। এতে চাল, মাছ ও মুরগির বাজারে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি নজরদারি থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, খামারি ও মৎস্যচাষিদের দ্রুত নগদ সহায়তা এবং পশুখাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও ত্রাণ ও পুনর্বাসনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলার কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
ইতি/

