, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 82%

বাঁশবাগান উজাড়ে হুমকিতে হাতির আবাস,

উদ্বেগ পরিবেশবিদদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি সংরক্ষিত বনের একটি বাঁশবাগান উজাড়ের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বন্য হাতির খাদ্যের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত এ বাঁশবাগানের একটি অংশ সম্প্রতি কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বাণিজ্যিকভাবে বনজ গাছ রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনটির প্রায় ৮ একর আয়তনের বাঁশবাগানের একাংশ থেকে বাঁশ, ছোট গাছ ও ঝোপঝাড় সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কাটা বাঁশের গোড়া, উজাড় করা জমি এবং হাতির পায়ের ছাপ ও বিষ্ঠা দেখা গেছে। তাদের দাবি, কয়েক দিন আগেও বন্য হাতির একটি দল ওই এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে এসেছিল।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস ধ্বংস হতে থাকলে হাতির দল বাধ্য হয়ে লোকালয়, কৃষিজমি ও বসতবাড়ির দিকে চলে আসবে। এতে মানুষ ও বন্য হাতির মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় হাতির লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল ধাপে ধাপে বাঁশবাগান উজাড় করে সেখানে বাণিজ্যিক বনসৃজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

পরিবেশ ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঁশ বন্য হাতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে থাকা প্রাকৃতিক বাঁশঝাড় শুধু হাতির খাদ্যের উৎস নয়, এটি বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব বাঁশবাগান ধ্বংস হলে হাতির স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আশপাশের জনপদে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বনাঞ্চলে প্রাকৃতিক খাদ্য কমে গেলে হাতিরা বিকল্প খাদ্যের সন্ধানে ধানক্ষেত, সবজিখেত ও বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। এতে একদিকে যেমন মানুষের জানমাল ও ফসলের ক্ষতি হয়, অন্যদিকে হাতিও নানা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও খাদ্য উৎস সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাঁশবাগান উজাড়ের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অবৈধভাবে বন উজাড় বা দখলের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বন আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরায় বাঁশ রোপণের মাধ্যমে আগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

পরিবেশবাদীদের মতে, চুনতি সংরক্ষিত বন দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলগুলোর একটি। তাই বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক খাদ্যভাণ্ডার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে মানুষ-হাতি সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

ইতি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত