, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

ডুয়েল গেজে বদলে যাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও কার্যকর করতে চট্টগ্রাম–দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার রেলপথ উন্নয়নের কথা রয়েছে। ডুয়েল গেজে রূপান্তরের পর একই লাইনে মিটারগেজের পাশাপাশি ব্রডগেজ ট্রেন চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের রেল যোগাযোগ আরও সমন্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান প্রকল্পের তালিকা অনুযায়ী, ‘চট্টগ্রাম–দোহাজারী মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজ রেলপথে রূপান্তর’ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির বাস্তবায়নে প্রায় ১০ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থের সংস্থান দেখানো হয়েছে।

প্রকল্পের সঙ্গে শুধু রেললাইন পরিবর্তনই নয়, বিদ্যমান অবকাঠামোরও উন্নয়ন করা হবে। এর মধ্যে সেতু, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্টেশন ও প্ল্যাটফর্ম, লুপ লাইন, লেভেল ক্রসিং, সিগন্যালিং এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন রয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রকল্প তথ্যে চট্টগ্রাম–দোহাজারী করিডোরের বিদ্যমান রেলপথ উন্নয়ন, প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার নতুন বাইপাস নির্মাণ, রেললাইনের উচ্চতা বৃদ্ধি, ড্রেনেজ উন্নয়ন ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় ডুয়েল গেজ ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে রেলপথের সক্ষমতা বাড়বে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলপথে পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারিত হলে সড়কনির্ভরতা কিছুটা কমার পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থায় আরও বিকল্প তৈরি হতে পারে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উন্নত রেল যোগাযোগের ফলে শিল্প ও বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, পর্যটন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের চলাচলের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী স্থানীয় জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য পটিয়ায় জনমত যাচাই সভার আয়োজন করে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়নকাজের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব কমানো এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হবে। ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমেও সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা অনুসরণের উদ্যোগ রয়েছে। প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়াও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্মাণকাজের ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আসাদুল হক জানিয়েছিলেন, দরপত্র মূল্যায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল এবং অর্থায়নকারী সংস্থা এডিবির পর্যালোচনাও চলছিল।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথের ডুয়েল গেজে রূপান্তর শুধু রেল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়; এটি চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কাজে লাগবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনার ওপর।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত