চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আরমান উদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও প্রবাসী আমির হোসেন মামলাটি করেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী কবির জিলান জানান, আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণের পর অভিযোগটি তদন্তের জন্য সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় আমির হোসেনের চারতলা একটি ভবন রয়েছে। সেখানে দোকান ও ভাড়াটেদের বসবাসের ব্যবস্থা রয়েছে। বাদীর অভিযোগ, দেশে ফেরার পর থেকে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল রাতের দিকে আসামিরা মার্কেটের নিচতলায় এক ভাড়াটের দোকানের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে স্টিলের আলমারি, ওয়াল শোকেসসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব মালামালের মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দোকানে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
বাদীর দাবি, পরে মার্কেটের অন্য ভাড়াটেদেরও আসামিদের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০ আগস্ট সকালে আসামিরা ওই মার্কেটে বৈঠক করেন। সেখানে ২০ লাখ টাকা না দিলে দোকান ও বাসার দখল ছাড়তে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় আরমান উদ্দিন মুঠোফোনে বাদীকে তাদের কথামতো চলার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর আরও অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।
মামলায় আরমান উদ্দিন ছাড়াও মো. আরিফ উদ্দীন, শওকত আলী, মো. আদিল, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীনকে আসামি করা হয়েছে।
আমির হোসেন বলেন, চাঁদা দাবির ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরমান উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ইতি/
