, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

চসিকের চার বৈদ্যুতিক পোল সরানোর ঘটনায় কর্মচারীর সম্পৃক্ততা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) চারটি বৈদ্যুতিক পোল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংস্থাটির বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে চসিক কর্তৃপক্ষ।

চসিকের তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামী ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন স্টারশিপ ব্রিজ এলাকায় রাখা চারটি বৈদ্যুতিক পোল গত ১৬ জুলাই সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ৩০ জুলাই বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে চসিক।

ঘটনার তদন্তে গত ১৩ আগস্ট তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুমকে আহ্বায়ক, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মুহাম্মদ শাফকাত বিন আমিনকে সদস্যসচিব এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তারকে সদস্য করা হয়। কমিটি সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

সিসিটিভিতে কর্মচারীর উপস্থিতি

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি কারখানার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিট থেকে ৭টা ৩৯ মিনিটের মধ্যে চসিকের বৈদ্যুতিক সহকারী শিমুল ভৌমিকের উপস্থিতিতে কয়েকজন ব্যক্তি চারটি পোল সরিয়ে নিচ্ছেন।

তদন্ত কমিটির কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে শিমুল ভৌমিক জানান, তিনি নিয়মিত বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন এবং স্টারশিপ ব্রিজের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পোলগুলো পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। পরে তিনি নির্মাণাধীন ব্রিজের কয়েকজন শ্রমিকের সহায়তায় পোলগুলো সেখান থেকে সরিয়ে কিছুটা দূরে রাখেন।

১৬ দিন পর চসিকের অফিসে ফেরত

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসার পর শিমুল ভৌমিক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর প্রায় ১৬ দিন পর, ২ আগস্ট তিনি চারটি পোল চসিকের দামপাড়া বিদ্যুৎ অফিসে জমা দেন।

পোলগুলো গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বিষয়টি চুরির ঘটনা হিসেবে অবগত ছিলেন না বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করা হয়।

ছয় পর্যবেক্ষণ তদন্ত কমিটির

তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে ছয়টি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। এতে চসিকের মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদ জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রয়োজনে নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণকাজের সামগ্রী সাময়িকভাবে বাইরে রাখলেও নির্দিষ্ট কর্মচারীর জিম্মায় তা সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।

একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব সম্পদ রক্ষায় আরও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিমুল ভৌমিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে 

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত