, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

২০৫০ সালের মহাপরিকল্পনায় বদলাবে চট্টগ্রামের নগরচিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামকে আগামী ২৫ বছরে আরও পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান ২০২৫–২০৫০’-এর আওতায় বর্তমান নগর এলাকার বাইরে আশপাশের বিভিন্ন পৌরসভা ও উপজেলার নগরায়ণযোগ্য এলাকাকেও পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিকল্পনার আওতাধীন এলাকা প্রায় ১ হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটার।

মহাপরিকল্পনার খসড়ায় আবাসন, যোগাযোগ ও অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত স্থান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় উদ্যানের আদলে দুই থেকে তিনটি বড় পার্ক তৈরির জন্য সম্ভাব্য জমি সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় কবরস্থানের আদলে বড় একটি কবরস্থান এবং নগরবাসীর জন্য একটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনায় পাহাড়, জলাশয়, কৃষিজমি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিডিএর খসড়া পরিকল্পনায় পাহাড় ও জলাশয়ের ডিজিটাল নথি তৈরির পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় মাটির তরলীকরণজনিত ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পৃথক মানচিত্র তৈরির কথাও রয়েছে। বিভিন্ন খাতে মোট ৭৭টি নীতিগত সুপারিশ রাখা হয়েছে।

ব্যয় ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন’ প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২০ সালে এবং পরবর্তী সময়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৮৫ শতাংশ বলে সিডিএ জানিয়েছিল; আগস্টে সিডিএর পক্ষ থেকে খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়।

নতুন মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, হাটহাজারী ও রাউজানের মতো আশপাশের এলাকার বিভিন্ন অংশ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে পরিকল্পনাটি কেবল বর্তমান নগর ব্যবস্থাপনা নয়, ভবিষ্যৎ মহানগরের বিস্তৃত নগরায়ণ কাঠামোকেও নির্দেশনা দেবে।

পরিকল্পনার আওতায় শিল্পাঞ্চল, বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রম, পর্যটন এলাকা, কৃষিজমি, আবাসিক ও বাণিজ্যিক অঞ্চল, নদী-খাল, পাহাড় এবং পরিবহন অবকাঠামোর জন্য পৃথক ভূমি ব্যবহারের কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়নকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে মহানগর এলাকাকে কয়েকটি কৌশলগত অঞ্চলে ভাগ করে প্রশাসনিক ও সেবা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার প্রস্তাবও রয়েছে।

বর্তমান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার আয়তন প্রায় ১৫৫ বর্গকিলোমিটার। এর বাইরে বিস্তৃত ১ হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটারের পরিকল্পনা এলাকা কার্যকর হলে ভবিষ্যৎ নগরায়ণের পরিধি বর্তমান শহরের তুলনায় বহুগুণ বাড়বে। এ কারণে নতুন মাস্টারপ্ল্যানকে শুধু নগর সম্প্রসারণের নকশা নয়, বরং আগামী ২৫ বছরে চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবহার, যোগাযোগ, আবাসন, পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের সামগ্রিক নির্দেশিকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খসড়া পরিকল্পনা নিয়ে নাগরিকদের মতামত, আপত্তি ও প্রস্তাব গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সিডিএ। ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিনের এই মতামত গ্রহণ পর্ব শেষে প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত ও বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভূমি ব্যবহার ও স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে। ফলে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ঠেকানো, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত