, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ভারতেও শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এবার এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারত। নেপালের বন্যার পানি আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের দিকে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কায় বিহার ও উত্তর প্রদেশের কয়েকটি সীমান্তবর্তী জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিশেষ করে নারায়ণী–গণ্ডক নদী অববাহিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নেপালে যে নদী নারায়ণী নামে পরিচিত, সেটিই ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের পর গণ্ডক নামে প্রবাহিত হয়েছে। এই নদী ভারতের বিহারের বাল্মীকিনগর হয়ে উত্তর প্রদেশ ও বিহারের বিভিন্ন এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষ পর্যন্ত গঙ্গায় গিয়ে মিশেছে।

নেপালের বন্যার পানি কীভাবে ভারতে পৌঁছাতে পারে?

নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থায় ব্যাপক পানি প্রবাহ তৈরি হয়। ত্রিশুলি নদী পরবর্তী সময়ে নারায়ণী নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় উজানের অতিরিক্ত পানির প্রবাহ নিয়ে ভারতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নারায়ণী নদী ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে বিহারের বাল্মীকিনগরে প্রবেশের পর গণ্ডক নামে পরিচিত হয়। ফলে নেপালের উজানে পানির প্রবাহ বাড়লে এর প্রভাব গণ্ডক অববাহিকার ভারতীয় অংশেও পড়তে পারে।

বিহারে খুলে দেওয়া হয়েছে গণ্ডক ব্যারাজের সব গেট

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহারের বাল্মীকিনগরের গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে ব্যারাজ দিয়ে প্রায় ৮৬ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ার কথা জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে পানিপ্রবাহ আরও বেড়েছে বলে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সারণ, মুজাফফরপুর ও বৈশালীসহ গণ্ডক অববাহিকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোথাও পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত মানুষ সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উত্তর প্রদেশেও সতর্কতা

নেপাল সীমান্তবর্তী উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগর জেলাতেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য পানি বৃদ্ধির কথা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে নদীর পানির স্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর এখন মূল উদ্বেগ—উজান থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানির ঢেউ গণ্ডক অববাহিকায় কতটা প্রভাব ফেলবে। এ কারণে সীমান্তবর্তী ভারতীয় এলাকাগুলোতে সতর্কতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত