, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 85%

চাঁদের বুকে বিশাল অবয়ব, সত্যিই কি এলিয়েনের যান?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় ছয় দশক আগে চাঁদের কক্ষপথ থেকে তোলা একটি ছবিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবিতে চাঁদের পৃষ্ঠে দীর্ঘ আকৃতির একটি অস্বাভাবিক অবয়ব দেখা যায় বলে দাবি করছেন ইউএফও গবেষকরা। তাঁদের কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য ভিনগ্রহের মহাকাশযান বলেও ব্যাখ্যা করছেন। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ছবিটি ১৯৬৭ সালে নাসার লুনার অরবিটার-৩ মিশনের সময় ধারণ করা হয়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশযানটি ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৭ উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ১৫ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চাঁদের কক্ষপথ থেকে ২১১টি ছবি ধারণ করে। এসব ছবির বড় অংশ পৃথিবীতে পাঠানো হলেও কিছু ছবি হারিয়ে যায়।

সম্প্রতি ছবিটির একটি অংশ নিয়ে ইউএফও গবেষক স্কট ওয়ারিং নতুন করে দাবি করেছেন, সেখানে থাকা দীর্ঘ অবয়বটি চাঁদের স্বাভাবিক ভূপ্রকৃতির অংশ নয়; বরং এটি একটি বিশাল মহাকাশযান হতে পারে। থিওফিলাস জ্বালামুখের আকারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বস্তুটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার বলে হিসাব করেছেন।

তবে এই ব্যাখ্যা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। নাসার প্রকাশিত লুনার অরবিটার-৩ সংক্রান্ত তথ্যেও ওই অবয়বকে কোনো মহাকাশযান বা কৃত্রিম বস্তু হিসেবে শনাক্ত করার তথ্য নেই। মিশনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদের পৃষ্ঠের বিস্তারিত ছবি সংগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ অ্যাপোলো অভিযানের জন্য সম্ভাব্য অবতরণস্থল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।

চাঁদে অজানা বস্তু নিয়ে আলোচনার মধ্যে অ্যাপোলো-১৬ মিশনের একটি পুরোনো বৈজ্ঞানিক ব্রিফিংয়ের কথাও নতুন করে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের DVIDS আর্কাইভে থাকা ওই রেকর্ডে একজন বক্তাকে পরীক্ষামূলক তথ্যের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার সময় ‘alien starbase’ থাকার সম্ভাবনার কথা বলতে শোনা যায়। তবে সরকারি আর্কাইভেই মন্তব্যটিকে একটি অনানুষ্ঠানিক মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এটি কোনো বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত বা ভিনগ্রহের ঘাঁটির প্রমাণ নয়।

ফলে পুরোনো চন্দ্রছবির অস্বাভাবিক অবয়বটি নিয়ে কৌতূহল থাকলেও সেটিকে ভিনগ্রহের মহাকাশযান হিসেবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ছবির আলো-ছায়া, ভূপ্রকৃতি, ক্যামেরা বা ছবির প্রক্রিয়াজনিত কোনো কারণে এমন অবয়ব তৈরি হয়েছে কি না—তা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত