, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 85%

ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ছয় মাস পরও জনসমক্ষে দেখা দেননি। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই তিনি অনেকটা আড়ালে রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা ও কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে এ কারণে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ সূত্রের দাবি, মোজতবা এখনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে আড়াল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। দৈনন্দিন প্রশাসনের বড় একটি অংশ তিনি শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর ন্যস্ত করেছেন বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় তাঁর কোনো সাম্প্রতিক ছবি, ভিডিও বা সরাসরি অডিও বার্তা প্রকাশিত না হওয়ায় ইরানের অভ্যন্তরে তাঁর নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি ক্ষমতার বিভিন্ন অংশের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে।

ইরানের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, মোজতবা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে নিয়মিত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এর আগে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের কথা জানিয়েছিলেন।

এদিকে ৩০ আগস্ট মোজতবা খামেনির একটি লিখিত বার্তা প্রকাশিত হয়েছে। ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা বলেন। এটি তাঁর আহত হওয়ার পর প্রকাশিত সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলোর একটি।

যুদ্ধের পাশাপাশি ইরান বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির বাণিজ্য, মুদ্রাবাজার ও তেল রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে ইরানের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফলে মোজতবা খামেনি বাস্তবে কতটা সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন এবং ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র কতটা তাঁর নিয়ন্ত্রণে—এ প্রশ্নই এখন দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত