নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৪২৬ জন। দুর্গম এলাকা, যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয় এবং চলমান উদ্ধার অভিযানের কারণে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
২৬ আগস্ট হিমবাহ ও বরফ-পাথরের ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক পানির ঢল নেপালের ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। নদীর স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সীমান্তের তিব্বত অংশেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নেপালের কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে দেশটিতে ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অংশে আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ। দুই পক্ষের হিসাব মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত ২ হাজার ৪২৬ জন।
বিদেশি নাগরিকদের বড় অংশই এখনো নিখোঁজ
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও কর্মী রয়েছেন।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৮ আগস্টের তালিকায় ৩২টির বেশি দেশের নাগরিকের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। ওই তালিকায় ৬৩২ বিদেশির মধ্যে ১২১ জনকে খুঁজে পাওয়া গেলেও ৫১১ জন তখনও নিখোঁজ ছিলেন।
দেশভেদে উল্লেখযোগ্য নিখোঁজের সংখ্যা হলো—
– ভারত: ৯৩ জন
– যুক্তরাষ্ট্র: ৬৬ জন
– চীন: ৮৪ জন
– ইউক্রেন: ৫৩ জন
– মালয়েশিয়া: ৫১ জন
– অস্ট্রেলিয়া: ৩৫ জন
– যুক্তরাজ্য: ৩৩ জন
– কানাডা: ২৫ জন
– রাশিয়া: ৬ জন
– দক্ষিণ আফ্রিকা: ৬ জন
– লাটভিয়া: ৬ জন
– জাপান: ৫ জন
– নিউজিল্যান্ড: ৫ জন
– ফ্রান্স: ৪ জন
– জার্মানি: ৮ জন
– সিঙ্গাপুর: ৯ জন
– দক্ষিণ কোরিয়া: সরকারি তালিকার ওই সংস্করণে নিখোঁজ কেউ নেই; ৯ জনকে পাওয়া গেছে
– স্পেন: ৩ জন
– পর্তুগাল: ৩ জন
– আয়ারল্যান্ড: ২ জন
– নেদারল্যান্ডস: ২ জন
– কাজাখস্তান: ২ জন
– বেলারুশ: ১ জন
– ফিনল্যান্ড: ১ জন
– ইসরায়েল: ১ জন
– লিথুয়ানিয়া: ১ জন
– ফিলিপাইন: ১ জন
– সার্বিয়া: ১ জন
– সুইডেন: ১ জন
তবে বিভিন্ন দেশের সরকার, নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তালিকায় কিছু সংখ্যাগত পার্থক্য রয়েছে। উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তের কাজ চলতে থাকায় এসব হিসাব নিয়মিত সংশোধন করা হচ্ছে।
পর্যটকদের মধ্যেও বহুজন নিখোঁজ
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের ২৮ আগস্টের হিসাবে, বন্যার পর ৩৬টি দেশের ৭৪৩ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। এর মধ্যে ১২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬২২ জনের অবস্থান তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পর্যটকদের মধ্যে ভারতের ৯৮ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, ইউক্রেনের ৬১ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে পর্যটন বোর্ড জানিয়েছিল।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
দুর্যোগের পর নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা দুর্গম এলাকাগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে। ত্রিশূলী নদী অববাহিকা ও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আশপাশে এখনো নিখোঁজদের সন্ধান চলছে। কিছু এলাকায় ধসে পড়া অবকাঠামো ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে নতুন করে পানি ও হিমবাহজাত হ্রদ ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় উদ্ধারকারীদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে। চীনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের দুর্যোগকবলিত এলাকায় একটি অস্থায়ী হ্রদের পানি কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নেপালের সরকার জানিয়েছে, জরুরি উদ্ধারকাজের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা, সড়ক ও সেতু পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন।
ইতি/
