কক্সবাজারের একটি পাঁচতারকা হোটেলের পার্কিং থেকে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গাড়িগুলো যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেশে এনে স্থানীয়ভাবে সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।
জব্দ করা গাড়ি তিনটি হলো টয়োটা সুপ্রা, হোন্ডা সিভিক ও মাজদা এমএক্স-৫। কাস্টমস গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী রোডের ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় গাড়িগুলোর প্রচলিত নম্বর প্লেটের পরিবর্তে ভিন্ন ধরনের পরিচিতি লেখা থাকার বিষয় কর্মকর্তাদের নজরে আসে।
কর্মকর্তারা গাড়িগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ক্রয় ও আমদানির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করা যায়নি বলে কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে। এরপর গাড়িগুলোর আমদানি, মালিকানা ও শুল্ক-কর পরিশোধের বিষয়টি যাচাই করতে সেগুলো জব্দ করা হয়।
সিআইআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িগুলো পূর্ণাঙ্গ যানবাহন হিসেবে আমদানি না দেখিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ হিসেবে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে। পরে স্থানীয়ভাবে এসব যন্ত্রাংশ সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। এর মাধ্যমে ভুল বা অসত্য ঘোষণা দিয়ে শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
জব্দ করা গাড়িগুলোর বিল অব এন্ট্রি, আমদানি ঘোষণার বিবরণ, এইচএস কোড, ঘোষিত মূল্য, শুল্ক-কর পরিশোধের তথ্য, ভিআইএন/চেসিস নম্বর এবং আমদানিকারক-সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়ির যন্ত্রাংশ কীভাবে দেশে এসেছে এবং কোথায় সেগুলো সংযোজন করা হয়েছে, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।
সিআইআইডি জানিয়েছে, তদন্তে শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, দলিল জালিয়াতি বা চোরাচালানের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগকে চূড়ান্ত বা প্রমাণিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
এদিকে, এর আগের দিন চট্টগ্রাম থেকেও যন্ত্রাংশ আমদানির কাগজপত্র ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি দেশে আনার অভিযোগে একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ জব্দ করেছিল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
ইতি/
