, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

রাউজান-রাঙ্গুনিয়া-ফটিকছড়িতে সন্ত্রাস ঠেকাতে ৪ ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা ঠেকাতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে তিন উপজেলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) চারটি ক্যাম্প স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ পথে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো এবং থার্মাল ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পাহাড়ি ও বনাঞ্চলের দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও টহল চালানো কঠিন। অপরাধ সংঘটনের পর অস্ত্রধারীরা এসব এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, রাউজানে একটি, রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর ও পদুয়া এলাকায় দুটি এবং ফটিকছড়িতে একটি এপিবিএন ক্যাম্প স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পে ৫৫ জন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে চার ক্যাম্পে ২২০ জন জনবল প্রয়োজন হবে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাউজানের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও রাবারবাগানসহ দুর্গম এলাকাগুলো অপরাধীদের আত্মগোপনের সুযোগ তৈরি করছে। এসব এলাকা ব্যবহার করে অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পরিবহনের তথ্যও রয়েছে পুলিশের কাছে।

সন্ত্রাসীদের গতিবিধি শনাক্ত করতে তিন উপজেলার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং গুরুত্বপূর্ণ চলাচলপথে এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। শনাক্ত অপরাধীদের ছবি ও তথ্য ক্যামেরার নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় থার্মাল ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে রাত-দিন নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত, চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনায় এ প্রযুক্তি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রধারীদের তৎপরতা মোকাবিলায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। ক্যাম্প স্থাপনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তল্লাশি ও নজরদারি জোরদারের কথাও প্রস্তাবে রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজানে ২৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৮টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পুলিশের তথ্য। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পর রাউজানে তল্লাশিচৌকি ও টহল বাড়ানো হয়েছিল। এতে অস্ত্র উদ্ধার ও সহিংসতার ঘটনা কিছুটা কমলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।

এপিবিএন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চারটি ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাব তারা পেয়েছে। তবে বাহিনীতে জনবলসংকট থাকায় প্রস্তাব বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে। নতুন ব্যাটালিয়ন বা প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে ক্যাম্পগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান নয়—প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, নিয়মিত তল্লাশি, স্থায়ী পুলিশ উপস্থিতি এবং অপরাধীদের পালানোর পথ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে পাহাড় ও বনাঞ্চলকে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ কমানো সম্ভব হবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত