, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 88%

ওয়াসার পানি নেটওয়ার্কে আসছে পুরো চট্টগ্রাম নগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত ও আধুনিক করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এর আওতায় নগরীর যেসব এলাকায় এখনো ওয়াসার পাইপলাইন পৌঁছায়নি, সেসব এলাকায় নতুন লাইন স্থাপনের পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ পাইপলাইন প্রতিস্থাপন করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় নেওয়া এ প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৩৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন ও প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পানি সরবরাহের চাপ ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নগরীতে ৪৬টি ডিস্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়া (ডিএমএ) স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের কাজ আগামী বছর শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম জানান, গত আগস্টে প্রকল্পটির আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বর্তমানে যেসব এলাকায় পাইপলাইন নেই, সেসব এলাকাও নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, নগরীর পতেঙ্গাসহ বেশ কিছু এলাকায় এখনো ওয়াসার পাইপলাইন বা সংযোগ ব্যবস্থা নেই। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এসব এলাকায় পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কয়েক দশক পুরোনো পাইপলাইন থাকা এলাকাগুলোতে সেগুলো তুলে নতুন পাইপ বসানো হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে প্রায় সাড়ে ৩৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন প্রতিস্থাপন এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ৪৬টি ডিএমএ স্থাপনের কাজ করা হবে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দরপত্র গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ রয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে নগরীর প্রায় এক লাখ গ্রাহককে ডিজিটাল মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে পানি সরবরাহের সক্ষমতা ধরে রাখতে ৪০টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ওয়াসা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২-এর আওতায় ২০২২ সালে নগরীতে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পুরোনো পাইপলাইন তুলে নতুন ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইন স্থাপন করা হয়েছিল। এরপরও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো পাইপলাইন, লিকেজ ও ম্যানুয়াল মিটারিং ব্যবস্থার কারণে পানি সরবরাহে সমস্যা রয়ে গেছে।

বিশেষ করে খুলশী, এ কে খান, বায়েজিদ, অক্সিজেন, কালুরঘাট ও চাক্তাই এলাকায় বিদ্যমান প্রায় ৪০ হাজার সার্ভিস সংযোগে পর্যাপ্ত ও সমান চাপে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এসব এলাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, ডিএমএ স্থাপনের ফলে নির্দিষ্ট এলাকার পানির প্রবাহ ও চাপ আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে পাইপলাইনের লিকেজ শনাক্ত ও পানির অপচয় কমানোর পাশাপাশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বাড়বে এবং রাজস্ব আদায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে প্রায় ৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা পাওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের অংশ প্রায় ৫৭৮ কোটি এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৭৪ কোটি টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পুরোনো অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি নতুন এলাকাগুলো ওয়াসার নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পানি সরবরাহের বৈষম্য ও লিকেজজনিত অপচয় কমানোর প্রত্যাশা করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত