ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের লং মার্চে কতটি গাড়ি অংশ নিয়েছে, তা নিয়ে আয়োজকদের ঘোষিত সংখ্যার সঙ্গে বাস্তব চিত্রে পার্থক্য দেখা গেছে। মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের তথ্য বিশ্লেষণে লং মার্চের বহরে ৬০০টির কিছু বেশি গাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশের পর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ১১-দলীয় জোটের লং মার্চ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে শুরুতে কয়েক হাজার গাড়ি নিয়ে কর্মসূচি করার কথা বলা হলেও পরে জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বিবেচনায় বহরের আকার কমিয়ে প্রায় এক হাজার গাড়ি করার কথা জানানো হয়।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু পার হওয়ার সময় লং মার্চের ৬০০টির কিছু বেশি গাড়ি টোল পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ৫৫০টির বেশি ছিল বড় মাইক্রোবাস। পাশাপাশি জিপ, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং কয়েকটি বাসও বহরে ছিল।
সেতু দুটির জন্য মাইক্রোবাস ও কারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত টোল ৭০ টাকা। বাসের জন্য টোলের হার তুলনামূলক বেশি। এসব গাড়ি থেকে মোট ৪০ হাজার টাকার বেশি টোল আদায় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে লং মার্চের গাড়ির সঠিক সংখ্যা ও টোল আদায়ের পরিমাণ সম্পর্কে সওজের কোনো কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লং মার্চের গাড়িগুলো নিয়মিত প্রক্রিয়ায় টোল পরিশোধ করেই সেতু দুটি পার হয়েছে।
এদিকে, জোটের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু পার হওয়ার পরও বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও গাড়ি লং মার্চের বহরে যুক্ত হয়। বিশেষ করে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলার সমর্থকদের গাড়ি পথে বহরের সঙ্গে যোগ দেয়। ফলে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর সময় মোট গাড়ির সংখ্যা সেতু পার হওয়ার সময়ের তুলনায় বেশি হয়ে থাকতে পারে।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
লং মার্চের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বন্ধ করা।
ইতি/
