কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে মো. ফয়সাল নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকার মিয়াজীর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, চুরির উদ্দেশ্যে একটি বাড়ি ও সংলগ্ন স্টিলের আসবাব তৈরির কারখানায় প্রবেশের সন্দেহে ফয়সালকে আটক করা হয়। পরে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ফয়সালকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় কয়েকজনের মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। তার কাঁধ ও পিঠের ওপর ইট রাখার দৃশ্যও ভিডিওতে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সুলতান জানান, চুরির সন্দেহে ফয়সালকে আটক করা হয়েছিল। তাকে মারধর করে বেঁধে রাখার বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিকের এক ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ফয়সালের বিরুদ্ধে চুরির কোনো মামলা বা পুলিশের রেকর্ড রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, চুরির অভিযোগ থাকলেও কাউকে এভাবে মারধর করে হত্যা করা যায় না।
বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুলও জানান, চোর সন্দেহে ফয়সালকে আটক করে মারধর করা হয়েছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে চুরির অভিযোগ সত্য হলেও এভাবে কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ঘটনায় প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ইতি/
