বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে।
দ্য ডেইলি স্টার ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) অনুমোদন পাওয়ার পর এ কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যায়ে চুল্লির ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া বজায় রেখে বিভিন্ন কারিগরি পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরীক্ষার পর শুরু কার্যক্রম
চুল্লির নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কমিশনিং কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় মেরামত ও উচ্চচাপের পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি দেয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পর আরও প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন বিভিন্ন পরীক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম চলতে পারে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে পর্যায়ক্রমে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
ডিসেম্বরে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের লক্ষ্য
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব ধাপ নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এ সময়সূচি নির্ভর করবে পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরবর্তী অনুমোদনের ওপর।
পারমাণবিক জ্বালানির বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপ ব্যবহার করে বাষ্প তৈরি করা হবে। সেই বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
দুটি ইউনিটে মোট সক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। আর কেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড।
প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়াকে দেশের বিদ্যুৎ খাত ও পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে কমিশনিংয়ের বাকি ধাপগুলো সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ইতি/
