
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচকে ঘিরে ফুটবলবিশ্বে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের সঙ্গে বর্তমান দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। সেই মিলের ভিত্তিতেই স্পেনকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে দেখে নেওয়া যাক, কোন সাতটি কারণে স্পেন শিরোপার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হতে পারে—
১. দুর্দান্ত রক্ষণভাগ
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই স্পেনের ডিফেন্স ছিল অত্যন্ত সংগঠিত। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে দলটি ছিল প্রায় নিখুঁত, যা ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম বড় শক্তির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
২. বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য
স্পেনের ঐতিহ্যবাহী পজেশনভিত্তিক ফুটবল এবারও কার্যকর। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল তাদের বড় অস্ত্র।
৩. দলীয় সমন্বয়ের অসাধারণ ছাপ
তারকানির্ভর না হয়ে দলগত পারফরম্যান্সে জোর দিয়েছে স্পেন। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ ও রক্ষণ—সব জায়গাতেই রয়েছে দারুণ বোঝাপড়া।
৪. নকআউট পর্বে ধারাবাহিক সাফল্য
শেষ ষোল, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে স্প্যানিশরা।
৫. তরুণ ও অভিজ্ঞদের ভারসাম্য
দলে যেমন উদীয়মান প্রতিভা রয়েছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সামাল দেওয়ার মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারও আছেন। এই ভারসাম্য স্পেনকে করেছে আরও পরিণত।
৬. মানসিক দৃঢ়তা
চাপের ম্যাচে শান্ত থাকা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতা স্পেনকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা নিজেদের সেরাটা দিতে সক্ষম হয়েছে।
৭. ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা
২০১০ সালে যেমন ধাপে ধাপে নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন, এবারও অনেকেই সেই একই ধারাবাহিকতা দেখতে পাচ্ছেন। তাই ইতিহাস আবারও স্পেনের পক্ষেই কথা বলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
তবে ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা। অতীতের পরিসংখ্যান বা মিল যতই স্পেনের পক্ষে থাকুক না কেন, চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ হবে মাঠের ৯০ মিনিট—অথবা তারও বেশি সময়ের লড়াইয়ে। তাই শিরোপা কার হাতে উঠবে, তার উত্তর মিলবে ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরই
ইতি/

