, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 81%

যাচাই হয়েছে লাখো রোহিঙ্গার,

তবু শুরু হয়নি নিজ দেশে ফেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। তবে একাধিক দফা আলোচনা, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। নিরাপত্তা, নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা এবং রাখাইন রাজ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পুরো প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য-তালিকা মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছে, যাতে তাদের পরিচয় যাচাই করে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

এর মধ্যে গত নয় বছরে মিয়ানমার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৩ জনের পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করেছে। তবে যাচাইকৃতদের মধ্যেও মাত্র ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৬ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের পরিচয় যাচাই বা স্বীকৃতির প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

বর্তমানে ৪ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাই এখনো বাকি রয়েছে। অন্যদিকে যাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদেরও নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলকভাবে মিয়ানমারে ফেরানোর মতো অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যাবাসনের জন্য শুধু পরিচয় যাচাই যথেষ্ট নয়। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা এবং টেকসই পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এসব বিষয় নিশ্চিত না হলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কাউকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়।

এদিকে কক্সবাজারের ৩৩টি শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল জীবনযাপন করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা এবং স্থানীয় জনগণের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসইভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীল পরিস্থিতি, নাগরিকত্বের সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বৃহৎ পরিসরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত।

, ইতি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত