, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

চট্টগ্রামে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে নীরবে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠী। তবে সামাজিক stigma ও সচেতনতার অভাবে অনেকে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আসছেন না।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৩ হাজার ৮১৭ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৮৪ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ জন পুরুষ ও ২৩ জন নারী। একই সময়ে এইচআইভি-সম্পর্কিত জটিলতায় ১১ জনের মৃত্যু হয়।

এর আগের বছর, ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৫৮ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়ায়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য।

জাতীয় পর্যায়েও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস-এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮১৯ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের ১ হাজার ৪৩৮ জনের তুলনায় বেশি। একই বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৩৭৬ জন—ঢাকার পরই যা সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামে সংক্রমণ বেশি শনাক্ত হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এ অঞ্চলে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসেন। পাশাপাশি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর বড় উপস্থিতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার ঘাটতিও সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, এইচআইভি শনাক্ত হওয়া মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। নিয়মিত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা গ্রহণ করলে ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই সন্দেহ বা ঝুঁকি থাকলে গোপনীয়তা বজায় রেখে পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এইচআইভি প্রতিরোধে নিরাপদ যৌন আচরণ, রক্ত ও রক্তজাত পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যবহৃত সুচ-সিরিঞ্জ ভাগাভাগি না করা এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য ও সামাজিক বর্জন বন্ধ করাও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, সহজলভ্য এইচআইভি পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে পারলেই চট্টগ্রামে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত