, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 86%

আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির অধ্যায়ের সমাপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে রাজত্ব করার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান।

মেসি বলেন, সিদ্ধান্তটি নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ভাবার পর তিনি মনে করছেন, এখনই সরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময়। জাতীয় দলের হয়ে সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৫ সালে। এরপর ২১ বছরের পথচলায় তিনি জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচ খেলেছেন এবং করেছেন ১২৫ গোল—দুই ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ রেকর্ডধারী তিনি।

তবে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টা ছিল সাফল্যের চেয়ে হতাশায় বেশি ভরা। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে পরাজয়ের পাশাপাশি ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও শিরোপা হাতছাড়া হয়। টানা ব্যর্থতার পর ২০১৬ সালে একবার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলে আবার আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে ফেরেন।

ফেরার পরই বদলে যায় মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গল্প। ২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জেতান তিনি। পরের বছর ফাইনালিসিমা জয়ের পর কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।

২০২৬ বিশ্বকাপেও মেসির নেতৃত্বে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয় তারা। ওই ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকে।

অবসরের সিদ্ধান্তের কথা মেসি জানানোর কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি সেটি নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই দিন পর, ২১ জুলাই তিনি অবসরের বার্তাটি লিখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আরও দৃঢ় হন তিনি।

জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের উঠে আসার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন মেসি। তার মতে, আর্জেন্টিনার দলে এখন এমন অনেক তরুণ প্রতিভা রয়েছে, যারা নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার যোগ্য।

বিদায়ী বার্তায় দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাওয়া সমর্থনের জন্য সমর্থক, সতীর্থ, কোচ, পরিবার ও জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে আর মাঠে না নামলেও আর্জেন্টিনার একজন সমর্থক হিসেবে দলের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হলো মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের সবচেয়ে দীর্ঘ ও আলোচিত পর্ব। একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, ২০৭ ম্যাচ ও ১২৫ গোল—সাফল্য, ব্যর্থতা, প্রত্যাবর্তন ও অপেক্ষার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই অধ্যায় এখন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ক্লাব ফুটবল অবশ্য এখানেই শেষ হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও মেসি ক্লাব পর্যায়ে -এর হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো অধ্যায় বন্ধ করে বিদায় নেওয়া মেসির গল্প তাই শুধু শিরোপার নয়—এটি দীর্ঘ অপেক্ষা, সমালোচনা, প্রত্যাবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত নিজ দেশের ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়ার গল্প।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত