, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 87%

ইন্টারনেটে আসছে বড় চাপ, বাড়তে পারে দাম কমতে পারে গতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট অবকাঠামো আগামী দিনে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। নতুন সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে সিদ্ধান্তহীনতা চলতে থাকলে আগামী দশকে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

৩১ আগস্ট ঢাকার অদূরে টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজিত এক কর্মশালায় এ আশঙ্কার কথা উঠে আসে। কর্মশালায় বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ ব্যবহার, ভবিষ্যৎ চাহিদা, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সিডিনেট কমিউনিকেশনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান এবং মেটাকোর সাবকমের প্রকল্পপ্রধান মাহমুদ শাহেদ।

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ছিল প্রায় ৫০ জিবিপিএস। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৭৬ টেরাবিটে। এরপর ২০২০ সালে ১ দশমিক ৭৮ টেরাবিট, ২০২২ সালে ৪ দশমিক ২ টেরাবিট, ২০২৪ সালে ৬ দশমিক ৮৬ টেরাবিট এবং ২০২৬ সালে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে।

অর্থাৎ, মাত্র ১৩ বছরে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ২৬০ গুণ। সংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই চাহিদা আরও দ্রুত বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে ব্যান্ডউইথের চাহিদা ১৯ দশমিক ১ টেরাবিট, ২০৩০ সালে ৫৪ টেরাবিট এবং ২০৩৬ সালে তা ৪৩২ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ এখন মূলত সরকারি সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫ সাবমেরিন ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল। ক্যাবল দুটির সক্ষমতা যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬ ও ২ দশমিক ৫ টেরাবিট।

আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগও অনেক কম। ভারতের রয়েছে ১৯টি, মালয়েশিয়ার ২৩টি, থাইল্যান্ডের ১২টি এবং ফিলিপাইনের ১৯টি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ। বিপরীতে বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র দুটি।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক সংযোগের সংখ্যা বাড়ানো গেলে দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামোর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা বাড়বে। নতুন বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হলে ইন্টারনেটের দাম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে সেবার মান ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তে এবং ইন্টারনেট ব্যবহার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব সংখ্যা এখনো পূর্বাভাস ও খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি। তাদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে বাড়তে থাকা ব্যান্ডউইথের চাহিদা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের ইন্টারনেট সেবা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা এবং সামগ্রিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং একাধিক বিকল্প সংযোগ তৈরি করা জরুরি।

ইতি/ আরু|

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত