, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 87%

বাংলাদেশের বড় বাজারে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) বাংলাদেশ কার্যালয়ের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেমিনার হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

কাতাওকা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বড় ভোক্তা বাজার, জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কারণে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বাংলাদেশে বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশকে উৎপাদন ও রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচনা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানি কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের আগ্রহও বেড়েছে।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মত দেন তিনি। জেটরোর সাম্প্রতিক আলোচনাতেও EPA-কে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে সভায় জাপানি কোম্পানিগুলোকে জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি, এলএনজি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো ও শিল্প খাতে জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব রয়েছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকার মেট্রোরেল ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা রয়েছে।

তিনি চট্টগ্রামের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, স্টার্টআপ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও বন্দরকেন্দ্রিক অবকাঠামোর কারণে চট্টগ্রাম ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত হতে পারে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানের সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

সভায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য জাপানে রপ্তানি বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সোলার ব্যাটারি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, এসএমই ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত