
ইসলাম ধর্মে সপ্তাহের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় দিন হলো শুক্রবার, যা ‘ইয়াওমুল জুমা’ হিসেবে পরিচিত । এই পবিত্র দিনে মুসলমানদের জন্য বিশেষ কিছু আমল ও ইবাদতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ফজিলতপূর্ণ একটি আমল হলো পবিত্র কুরআনের ১৮ নম্বর সুরা, ‘সুরা কাহাফ’ তেলাওয়াত করা । রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনে এই সুরা পাঠের বিশেষ আধ্যাত্মিক ও জাগতিক গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন
দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হয়হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠকারীর জন্য আল্লাহ তাআলা বিশেষ নূরের (ঐশ্বরিক আলো) ব্যবস্থা করেন।
হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত নূর চমকাতে থাকবে।” (মুসতাদরাকে হাকেম) । এই নূর পাঠককে পাপাচার থেকে দূরে রেখে সঠিক পথে পরিচালিত করে
ক্ষমা ও প্রশান্তি লাভইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, নিয়মিত এই আমলের মাধ্যমে বান্দার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের সগিরা (ছোট) গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায় এছাড়া, সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত ও অন্তরে পরম প্রশান্তি (সাকীনা) অবতীর্ণ হয় বলে সহিহ হাদিসে উল্লেখ রয়েছে ।দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষাআখেরী জামানার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ও সংকট হবে দাজ্জালের ফিতনা । এই ভয়াবহ ফিতনা থেকে সুরক্ষায় সুরা কাহাফ ঢাল হিসেবে কাজ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০টি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।” (সহিহ মুসলিম) । অন্য বর্ণনায় সুরাটির শেষ ১০টি আয়াতের কথাও উল্লেখ রয়েছে
আমলের সঠিক সময় ও নিয়মফকিহ ও গবেষকদের মতে, বৃহস্পতিবার সূর্য ডোবার পর (অর্থাৎ জুমার রাত শুরু হওয়া) থেকে শুরু করে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো সময় সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা সুন্নাত
। যারা সম্পূর্ণ সুরাটি একবারে পড়তে পারেন না, তারা জুমার দিনের সুবিধাজনক সময়ে ভেঙে ভেঙে বা খণ্ড খণ্ড আকারেও এটি পাঠ করতে পারবেন
ইতি/

