, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট এখনো কাটেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আবাসিক, শিল্প ও পরিবহন খাতে ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। তবে মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন কার্গো পৌঁছানোর পর শনিবার বিকেল থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। অথচ নগর ও আশপাশের এলাকায় দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩২ কোটি ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট, অর্থাৎ প্রায় ৪৫ শতাংশ।

কেজিডিসিএল কর্মকর্তাদের মতে, দৈনিক সরবরাহ অন্তত ২৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হলে আবাসিকসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হতে পারে।

শিল্প ও পরিবহনেও প্রভাব

গ্যাসের স্বল্প সরবরাহের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলগুলোতে। পাইপলাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন সচল রাখতে কিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ও ফার্নেস তেল ব্যবহার করছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।

অন্যদিকে, গ্যাসের চাপ কম থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষার সারি। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চালকেরা।

সংকটের নেপথ্যে এলএনজি টার্মিনাল

চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর সেটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং চট্টগ্রামে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

পরবর্তীতে টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হলেও এলএনজি কার্গো সরবরাহে ঘাটতির কারণে আবারও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে চট্টগ্রামের আবাসিক ও শিল্প খাতে।

নতুন কার্গো আসায় মিলছে স্বস্তির আশা

শনিবার দুপুরে নতুন একটি এলএনজি কার্গো মহেশখালীর এক্সিলারেট টার্মিনালে যুক্ত হওয়ার পর বিকেল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন কার্গো থেকে সরবরাহ বাড়লে চট্টগ্রামের পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নত হবে। তবে দীর্ঘদিনের ঘাটতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

অর্থাৎ, শনিবার থেকেই সরবরাহ বাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে; তবে চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত