, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

এলএনজি সংকট কাটিয়ে ফের চালু এক্সিলারেটের টার্মিনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

এলএনজি সরবরাহের সংকটে কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)-এর একটি এলএনজিবাহী কার্গো নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই শনিবার দেশে পৌঁছানোর পর টার্মিনালে গ্যাস খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ঘনফুটের বেশি। আর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হয়েছে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস।

এর আগে গত বুধবার টার্মিনালে থাকা এলএনজির মজুত শেষ হয়ে গেলে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়।

এক্সিলারেটের জন্য স্পট মার্কেট থেকে কেনা বিপির এলএনজিবাহী কার্গোটি ২৩ আগস্ট দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই শনিবার কার্গোটি দেশে পৌঁছে যায়। এরপর টার্মিনালে এলএনজি খালাসের কাজ শুরু হয়।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) মো. শোয়েব জানান, কার্গো পৌঁছানোর পর এলএনজি খালাস করে তা গ্যাসে রূপান্তরের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। তাই কার্গো পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হয়।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, এর আগে এক্সিলারেটের পরবর্তী এলএনজি কার্গো রোববার আসার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে আরও সময় লাগার কথা ছিল। তবে কার্গো এক দিন আগে পৌঁছানোয় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের টার্মিনালের জন্য আনা আরেকটি এলএনজিবাহী কার্গো দেশে পৌঁছেছে। এতে টার্মিনালটির মজুত বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়নি। কারণ সামিটের টার্মিনালটি আগে থেকেই সর্বোচ্চ সক্ষমতায় দৈনিক প্রায় ৫৭ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ছিল প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট। একই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৬২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। সব মিলিয়ে তখন দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল প্রায় ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল আনুমানিক ১৬০ কোটি ঘনফুট।

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি আরও কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতি/

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত