পাহাড়, সমুদ্র আর কর্ণফুলীর শহর চট্টগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি।
১৯২৬ সালের জুলাইয়ে প্রথমবার চট্টগ্রামে আসেন কবি। বন্ধু হাবিবুল্লাহ বাহারের আমন্ত্রণে এসে চট্টগ্রাম কলেজসহ নগরের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন তিনি। আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, সীতাকুণ্ডসহ ঘুরে দেখেন শহরের নানা স্থান।
এরপর ১৯২৯ সালে দ্বিতীয়বার চট্টগ্রামে এসে শিক্ষা ও সমাজ নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নজরুল। এ সময় চট্টগ্রামের মানুষের ভালোবাসায়ও সিক্ত হন তিনি।
চট্টগ্রামের প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি কবির এই টান তাঁর সৃষ্টিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। ডিসি হিলসহ শহরের বিভিন্ন স্থান তাঁর সাহিত্য ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম সফরের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে তাঁর কবিতা, গান ও কাব্যগ্রন্থেও।
১৯৩৩ সালে তৃতীয়বার চট্টগ্রামে আসেন কবি। রাউজানে তরুণ সম্মেলন ও শিক্ষা সম্মিলনীতে অংশ নেন তিনি। রাউজান ও গহিরায় সে সময় তাঁকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৭৩ সালে অসুস্থ অবস্থায় শেষবারের মতো একদিনের জন্য চট্টগ্রামে আসেন নজরুল।
চট্টগ্রামের সঙ্গে নজরুলের এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক ধরে রাখতে বিভিন্ন সময়ে স্মৃতিচিহ্ন ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে ডিসি হিলের পূর্বপ্রান্তে জাতীয় কবির একটি নতুন স্মৃতিস্তম্ভও উদ্বোধন করা হয়।
ইতিহাস, সাহিত্য আর মানুষের ভালোবাসায় তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক শুধু কয়েকটি সফরের গল্প নয়—এটি বাংলা সাহিত্য ও চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ইতি/
