, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

চট্টগ্রাম বন্দরে মিলল বিলাসবহুল লেক্সাস-বিএমডব্লিউর অংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ব্যবহৃত ইঞ্জিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে জাপান থেকে আনা একটি কনটেইনারে মিলেছে বিলাসবহুল গাড়ির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

আটক চালানে লেক্সাস এলএক্স ৬০০, লেক্সাস এসসি ৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫ মডেলের গাড়ির বিভিন্ন অংশ পাওয়া গেছে। একই চালানে হোন্ডা বি১৮সি টাইপ-আর ইঞ্জিন, ফ্রন্ট হাফ বা হাফ-কাট, টায়ারসহ আরও বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ রয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জাপান থেকে ৪০ ফুটের একটি কনটেইনারে ১৬৭ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ১৮ কেজি পণ্য আনা হয়। আমদানির সময় পণ্যগুলোকে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ও গিয়ারবক্সসহ ব্যবহৃত পেট্রল ইঞ্জিন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

কনটেইনারটি প্রায় এক মাস বন্দরে থাকার পরও এর জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। পরে নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্য খালাসের চেষ্টা চলছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দারা চালানটি পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন জানান, উদ্ধার হওয়া গাড়ির অংশগুলো পুনরায় সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। এরপর পণ্যগুলোর প্রকৃত শুল্কযোগ্যতা ও মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

প্রাথমিক হিসাবে চালানটির বাজারমূল্য আনুমানিক ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে কাস্টমস। তবে বিস্তারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়ির ধরন অনুযায়ী এসব পণ্যের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক-কর উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। চালানটি খালাসের ক্ষেত্রে আমদানিকারককে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করতে হতে পারে।

কাস্টমস সূত্রে আরও জানা গেছে, চালানটি আমদানি করেছে ঢাকার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এর আগেও মোংলা বন্দরে গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আনার অভিযোগে চালান আটকের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সামনে রেখে একই আমদানিকারকের আগের আমদানি কার্যক্রমও খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালানটির বাণিজ্যিক নথি, আমদানি মূল্য, অর্থ পরিশোধের তথ্য এবং পণ্য ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পণ্যের সামঞ্জস্যসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত