, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 80%

ঘর নেই, আশ্রয়ও নেই—চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত দুই বৃদ্ধার আর্তনাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্যার ভয়াবহতায় ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে বান্দরবান সদরের উজানীপাড়ার দুই বৃদ্ধা পাইনুচিং মারমা (৬৫) ও গীতা বড়ুয়া (৬০)-এর। আশ্রয়কেন্দ্রও ছাড়তে বলা হয়েছে তাঁদের। ফলে পরিবার নিয়ে এখন কোথায় থাকবেন, সেই দুশ্চিন্তায় দিশেহারা তারা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে বান্দরবান সদরের উজানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মালামাল ভর্তি কয়েকটি বস্তা, পুরোনো হাঁড়ি-পাতিল ও কিছু কাপড়চোপড় নিয়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে আছেন দুই বৃদ্ধা। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় অন্য আশ্রয়প্রার্থীরা একে একে বাড়ি ফিরলেও তাঁদের ফেরার মতো আর কোনো ঘর নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঙ্গু নদীর তীরে পাশাপাশি দুটি ঘরে ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসবাস করতেন পাইনুচিং মারমা ও গীতা বড়ুয়া। ভয়াবহ বন্যায় পাইনুচিং মারমার বসতঘর সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে গীতা বড়ুয়ার ঘরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামত ছাড়া সেখানে বসবাসের কোনো সুযোগ নেই।

পাইনুচিং মারমা বলেন, “কাজকর্ম করে, খেয়ে না খেয়ে বেঁচে ছিলাম। একটা ঘর ছিল বলেই মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল। এখন সেটাও পানিতে ভেসে গেছে। নদী সব নিয়ে গেছে। এখন কোথায় যাব, জানি না।”

সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৮ থেকে ১০টি পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মালপত্র গুছিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশ্রয় নেওয়া শিরিনা আক্তার ও রনজিৎ মল্লিক জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কক্ষ খালি করে দিতে বলেছে। তাই সবাই চলে যাচ্ছেন। তবে পাইনুচিং মারমা ও গীতা বড়ুয়ার যাওয়ার মতো কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।

আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে তাঁদের বাড়ির জায়গায় এখন পড়ে আছে ভাঙা বাঁশের বেড়া, ছিন্নভিন্ন ঢেউটিন ও উপড়ে পড়া গাছ। সামনে বয়ে চলা সাঙ্গু নদীর দিকে তাকিয়ে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় দিন গুনছেন দুই বৃদ্ধা।

ইতি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত