, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 80%

সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে কুয়েত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে একটি সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে পাকিস্তান। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

গত সোমবার ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার পর পাকিস্তান তেহরানকে জানিয়ে দেয়, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে তারা নিজেদের নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করবে। একই সময়ে চলতি বছরে একাধিকবার ইরানি হামলার শিকার হয়েছে কুয়েত। ফলে ইসলামাবাদ যদি কুয়েতের সঙ্গে আরও বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে এগোয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত সীমিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও কুয়েত যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে কুয়েত এখন পাকিস্তানের সঙ্গে আরও বিস্তৃত নিরাপত্তা সহযোগিতা গড়ে তুলতে আগ্রহী, যা সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের আদলে হতে পারে।

পাকিস্তান সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুদ্ধ পরিচালনার উদ্দেশ্যে সেনা পাঠানোর বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনায় নেই।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি কূটনৈতিক সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েত পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় কেউই পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর) এবং কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিরক্ষায় নতুন অংশীদার খুঁজছে কুয়েত

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প প্রতিরক্ষা অংশীদার খুঁজছে। বৃহৎ সামরিক বাহিনী, নিজস্ব যুদ্ধবিমান উৎপাদন সক্ষমতা এবং দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে পাকিস্তানকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে কুয়েত।

একটি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সূত্রের মতে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ কুয়েতের জন্য ইসলামাবাদকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য অংশীদারে পরিণত করেছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি নতুন বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামোর খসড়া নিয়ে কাজ করছে। একই ধরনের উদ্যোগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাহরাইন। অন্যদিকে জর্ডান পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক প্রশিক্ষণসংক্রান্ত পৃথক চুক্তি করতে আগ্রহী।

পাকিস্তান সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তিকে শুধু নিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ হিসেবেও দেখছে। আলোচনার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ কুয়েতের কাছ থেকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিনিয়োগে সহযোগিতা চেয়েছে।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, কুয়েত পাকিস্তানে শুল্ক-সুবিধাসহ জ্বালানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এটি দুই দেশের বিদ্যমান ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হতে পারে।

দুটি সূত্রের মতে, এই ধরনের জ্বালানি বিনিয়োগ পাকিস্তানকে বৃহত্তর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমে এলে আলোচনা আরও গতি পাবে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির দক্ষিণ এশিয়া–বিষয়ক গবেষক মুহাম্মদ ফয়সাল মনে করেন, এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। তার ভাষায়, অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইতি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত