, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 80%

স্পেন নাকি আর্জেন্টিনা? বিশ্বকাপ জয়ী নিয়ে চমক দিল সুপারকম্পিউটার

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আগামীকাল রোববার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এরই মধ্যে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিজয়ীর পূর্বাভাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।

তাঁদের তথ্য-পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণে স্পেনকে এগিয়ে রাখা হলেও, ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্যের কারণে আর্জেন্টিনা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটএসআই স্পোর্ট গবেষণা দলের পরিচালক ব্রেনান ক্লেইনের মতে, দলগত সমন্বয়, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিচারে স্পেনই সবচেয়ে শক্তিশালী দল। তাঁর ভাষায়, ‘দলগত খেলা ও কৌশলগত দক্ষতার বিচারে স্পেনের এই ম্যাচ না জেতার কোনো কারণ আমি দেখি না।’

তবে গবেষকেরা মনে করছেন, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের লড়াই করে ফিরে আসার মানসিকতা। পুরো টুর্নামেন্টে একাধিকবার পিছিয়ে পড়েও শেষ দিকে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছে দলটি। আর এই প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার করা ১৯ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ম্যাচের ৭৫ মিনিটের পর। অর্থাৎ ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, ততই আক্রমণে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এ প্রসঙ্গে ক্লেইন বলেন, ‘শেষ ১০ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যেন একধরনের রহস্যময় অনিবার্যতা কাজ করে।’

দুই দলের টুর্নামেন্টজুড়ে পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পেন তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘তিকি-তাকা’ ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ছোট ছোট পাসের পাশাপাশি এখন তারা দীর্ঘ উল্লম্ব (প্রগ্রেসিভ) পাসের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আক্রমণ গড়ে তুলছে। এর ফলও মিলেছে মাঠে। প্রতি ম্যাচে গড়ে ৭০টি প্রগ্রেসিভ পাস দিয়ে এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে স্পেন।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকার পারফরম্যান্সও আগের বিশ্বকাপের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ৯০ মিনিটে তাঁর প্রত্যাশিত গোলের হার (Expected Goals বা xG) ২০২২ সালের ০.২৬ থেকে বেড়ে এবার ০.৫২-এ পৌঁছেছে।

আরও একটি ব্যতিক্রমী তথ্য উঠে এসেছে গবেষণায়। টুর্নামেন্টের সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে মেসিই সবচেয়ে বেশি সময় হাঁটার গতিতে চলাফেরা করেন। তাঁর মোট চলাচলের ৬৪ শতাংশই হাঁটার গতিতে, যেখানে আর্লিং হলান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৪৫ শতাংশ।

এ বিষয়ে ক্লেইনের ব্যাখ্যা, ‘মেসি জানেন কখন শক্তি সঞ্চয় করতে হয় এবং কখন গতি বাড়াতে হয়। এ কারণেই ম্যাচের শেষ ভাগেও তিনি ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।’

এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের কথা উল্লেখ করেন। ওই ম্যাচে মেসি সফলভাবে ৯টি ড্রিবল সম্পন্ন করেন এবং ৮৪তম মিনিটে তাঁর বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রস থেকেই আসে আর্জেন্টিনার গোল।

তবে পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়েও বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, এক মুহূর্তের জাদুতেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন মেসি। নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ অ্যাশলি ফিলিপস বলেন, ‘মেসি যদি নিজের নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে দেন, তাতে আমি মোটেও অবাক হব না।’

এর আগে বিশ্বকাপ শুরুর আগে যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও এক হাজারবার কম্পিউটার সিমুলেশন চালিয়ে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সেই বিশ্লেষণেও স্পেনকে সবচেয়ে সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী দল হিসেবে দেখানো হয়। তাঁদের হিসাবে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ২৬.১ শতাংশ, যেখানে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ১২.৪ শতাংশ।

তবে শেষ পর্যন্ত পরিসংখ্যান নয়, মাঠের ৯০ মিনিটই নির্ধারণ করবে—বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঠবে স্পেনের হাতে, নাকি মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার।

ইতি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত