, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 80%

চিকেনস নেক’ ঘিরে তৎপর ভারত, সীমান্তে অমিত শাহর কৌশলগত বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শন শেষে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা জোরদার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে বিএসএফের কদমতলা সদর দপ্তরের অতিথিশালায় রাতযাপন করেন অমিত শাহ। শনিবার সকালে তিনি উত্তরবঙ্গ সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা’র সংলগ্ন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শন করেন। এ সময় কাঁটাতারসংলগ্ন জামুরিয়া ভিটা ও সন্ন্যাসী কাঁটা সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে শিলিগুড়ির জুমাগাছ সীমান্ত আউটপোস্টে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন অমিত শাহ। পাশাপাশি বিএসএফের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নতুন ১৪টি সীমান্তচৌকির উদ্বোধন করেন।

এরপর উত্তরবঙ্গ রাজ্য সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা’য় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও তা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তকে আরও দুর্ভেদ্য করতে কেন্দ্রীয় সরকার বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং দায়িত্ব পালনকারী বিএসএফ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বিশেষভাবে ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উত্তরবঙ্গ সীমান্তে নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর একমাত্র স্থলসংযোগ পথ হলো শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যবর্তী প্রায় ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সরু করিডরকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা ইস্যু নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও নিরাপত্তা অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য প্রায় এক হাজার একর জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার।

ইতি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত