চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে রেললাইনের একেবারে পাশে যানবাহন পার্ক করে রাখার প্রবণতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ট্রেন চলাচলের জন্য নির্ধারিত জায়গার কাছাকাছি টেম্পো, ট্রাক, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় একের পর এক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সর্বশেষ সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌর সদরের নতুন থানা কার্যালয়ের সামনে রেললাইনের পাশে পার্ক করে রাখা একটি সিএনজিচালিত টেম্পোর সঙ্গে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ঘর্ষণ হয়। এতে ট্রেনটির একাধিক দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি দরজা খুলে পড়ে যায়। ঘটনায় শিশুসহ দুই যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, গোমদণ্ডী স্টেশন অতিক্রম করে কক্সবাজারের দিকে যাওয়ার সময় ট্রেনটি রেললাইনের পাশে রাখা টেম্পোটির খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিল। এ সময় ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনটির ঘর্ষণ ঘটে। সংঘর্ষে টেম্পোটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, রেললাইনের আশপাশে কোনো যানবাহন বা অন্য কোনো বস্তু রেখে দেওয়া হলে ট্রেন চলাচলের সময় তা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের ক্ষেত্রে সামান্য প্রতিবন্ধকতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এটি অবশ্য চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে এমন প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে পটিয়ার খরনা এলাকায় রেললাইনের পাশে পার্ক করা একটি ট্রাকের সঙ্গে পর্যটক এক্সপ্রেসের সংঘর্ষে একাধিক বগির বেশ কয়েকটি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত না হলেও ট্রেনের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এদিকে জুন মাসেও পটিয়ার শ্রীমাই ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় রেলপথে দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত এবং আরেকজন আহত হন। যদিও ওই ঘটনার কারণ ছিল রেললাইন পারাপার, তবু একই রুটে ধারাবাহিক দুর্ঘটনা রেলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেললাইনের পাশে যানবাহন পার্কিং বন্ধে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। শুধু সতর্ক করে দায়িত্ব শেষ না করে নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে পর্যটক এক্সপ্রেসসহ যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল বাড়ায় রেলপথের নিরাপত্তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রেললাইনের পাশে অবাধ পার্কিং বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে সামান্য ঘর্ষণের ঘটনা বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে রেললাইনের আশপাশে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হবে।
ইতি/
