চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে আবাসিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে নকশার বাইরে বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত একটি স্থাপনায় নির্মাণ করা হয়েছে দুইতলা ভবন। এর নিচতলায় গোডাউন এবং সড়কের পাশে একাধিক দোকান তৈরি করে সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার ও ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগ্রাবাদের বিএস ৯৭০৬ দাগের প্রায় পৌনে পাঁচ কাঠা জমিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ না করে ভবনের কাঠামো ও ব্যবহার পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের আরও একটি দিক হলো, আবাসিক স্থাপনার অনুমোদন থাকলেও নিচতলায় গোডাউন এবং সড়কের পাশে দোকান স্থাপন করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে অনুমোদিত নকশা ও স্থাপনার ব্যবহারবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অথরাইজেশন কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে দুটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নোটিশ দেওয়ার পরও নির্মাণকাজ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
অভিযোগে স্থাপনার মালিক হিসেবে হাজী এয়াকুব আলী ভূঁইয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও মেয়ে মোছাম্মৎ সামছুন নাহার বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে এবং এর আগে দুই দফা নোটিশও দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত নকশা ও বর্তমানে নির্মিত স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা হবে।
তিনি জানান, অনুমোদিত নকশার বাইরে কোনো নির্মাণ হয়ে থাকলে কিংবা আবাসিক ব্যবহারের অনুমোদন নিয়ে স্থাপনাটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হলে সেটি বিধিবহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম নগরে অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ ও আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক স্থাপনার বিরুদ্ধে সিডিএ এর আগেও অভিযান চালিয়েছে। ২০২৪ সালে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন সাতটি দোকান উচ্ছেদের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
এ অবস্থায় আগ্রাবাদের আলোচিত স্থাপনাটি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর সিডিএ কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ইতি/
