, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে লোডশেডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ সংকটের সঙ্গে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে লোডশেডিং। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে দিনের ব্যস্ত সময়ে, যখন বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (PGCB) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে লোডশেডিং দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে—দিনের সর্বোচ্চ।

এর আগে একই দিন দুপুর ১২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩২৩ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৭৯৭ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৫২৬ মেগাওয়াট। বিকেল ৪টায়ও ৩ হাজার ৮১ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

জ্বালানি সংকটে কমছে উৎপাদন

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (BPDB) আগস্ট ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট স্থাপিত সক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট।

অর্থাৎ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা এখনো বড় মাত্রায় গ্যাস ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। ফলে গ্যাস, কয়লা কিংবা তরল জ্বালানির সরবরাহে সমস্যা হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে জাতীয় গ্রিডে।

২৭ আগস্টের গ্রিড তথ্যেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল। সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা ১৭ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াটে উঠলেও সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৯৩১ মেগাওয়াট; ওই সময়ে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮৫১ মেগাওয়াট।

সক্ষমতা থাকলেও মিলছে না প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা প্রায় ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াট—ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ। বিদ্যুৎ বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৭টি এবং ২০২৬ সালের ২০ মে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছিল ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট।

তবে স্থাপিত সক্ষমতা এবং বাস্তবে নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদন—দুটি এক বিষয় নয়। জ্বালানির প্রাপ্যতা, কেন্দ্রের কারিগরি অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন সমন্বয়ের কারণে সব কেন্দ্র একই সময়ে পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারে না।

ঢাকার বাইরেও বাড়ছে চাপ

লোডশেডিংয়ের প্রভাব শুধু রাজধানী বা বড় শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতির সময়ে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে সরবরাহ কমাতে হয়। এতে গ্রাম ও শিল্পাঞ্চলের গ্রাহকরাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীনতার মুখে পড়ছেন।

এর আগে আগস্টের শুরুতেও গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় Power Grid Bangladesh-এর তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে কয়েক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর আসে।

সংকটের পেছনে একাধিক কারণ

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ঘাটতির পেছনে একক কোনো কারণ নেই। গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি, কয়লা ও তরল জ্বালানির সংকট, কিছু কেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণ—সব মিলিয়েই উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ঘাটতি সামাল দিতে লোডশেডিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বিত সংস্কার ছাড়া এ ধরনের সংকটের স্থায়ী সমাধান কঠিন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত