, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 94%

নেপাল-চীন সীমান্তে নতুন বিপদ, উপচে পড়ছে হ্রদের পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভূমিধসের ফলে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক হ্রদের পানি উপচে পড়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঝুঁকি বিবেচনায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল উদ্ধার অভিযান

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদীতে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে নেপালে ৫৪৭ জন এবং চীনের তিব্বতে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

বন্যার প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর মধ্যেই ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া একটি হ্রদে পানির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে। শুক্রবার হ্রদটির পানি উপচে পড়তে শুরু করলে নেপালের নদী তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, হ্রদটিতে জমা পানির পরিমাণ ২৫ লাখ ঘনমিটারের বেশি হয়ে গিয়েছিল।

পানি উপচে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের উঁচু এলাকায় সরে যেতে বলা হয়। নিরাপত্তার কারণে উদ্ধারকর্মীদেরও সাময়িকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নেপাল ও চীন উভয় পক্ষই উদ্ধার তৎপরতা পুনরায় শুরু করে।

চীনের পক্ষ থেকেও হ্রদটির সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকৌশলী ও উদ্ধারকারী দলগুলো আকাশপথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং হ্রদের পানির গতিবিধি বিশ্লেষণ করছে।

এদিকে নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উজানে আরও একটি বড় হ্রদ রয়েছে, যেটির পানি এখনো বাড়ছে। সেটির পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্যাটেলাইট চিত্র, ক্যামেরা ও সেন্সর ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপাল ও চীন ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে নতুন করে হ্রদের পানি উপচে পড়ায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত