, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 94%

ভারতের বিদ্যুৎ করিডর নিয়ে ঢাকার চার শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বিহারের মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের প্রস্তাব নিয়ে নিজেদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চাইছে ঢাকা। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশ কী ধরনের সুবিধা পাবে এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যে কীভাবে যুক্ত হবে—সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আলোচনায় থাকা প্রকল্পটি হলো ভারতীয় রাজ্য বিহারের কাটিহার থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর হয়ে আসামের বরনগর পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি ডাবল-সার্কিট সঞ্চালন লাইন। ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নথিতেও কাটিহার–পার্বতীপুর–বরনগর ৭৬৫ কেভি আন্তঃদেশীয় সংযোগকে পরিকল্পিত প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই সংযোগের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি শর্ত বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

প্রথমত, এই সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে কী ধরনের বিদ্যুৎ পরিবহন করা হবে, বিশেষ করে উজানে নদীতে বাঁধ বা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক থাকবে কি না—তা স্পষ্ট করার দাবি থাকতে পারে।

দ্বিতীয়ত, নেপাল ও ভুটান থেকে তুলনামূলক কম দামে জলবিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ বাংলাদেশের জন্য নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মাধ্যমে শুধু ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহৃত না হয়ে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যেও বাংলাদেশ সরাসরি সুবিধা পেতে পারে।

তৃতীয়ত, প্রস্তাবিত গ্রিড ব্যবহার করে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কত পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি বা সঞ্চালন করতে পারবে, সেই সক্ষমতা ও সুযোগ স্পষ্ট করার বিষয়টি আলোচনায় থাকতে পারে।

চতুর্থত, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের ফলে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা, ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি লাভ-ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর আগে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বিবৃতিতে কাটিহার–পার্বতীপুর–বরনগর ৭৬৫ কেভি উচ্চক্ষমতার সংযোগ দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই দেশ সম্মতি জানিয়েছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটান থেকে ভারতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানির আগ্রহের কথাও জানিয়েছিল।

আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক সরকারি নথিতেও প্রকল্পটিকে ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আন্তঃসংযোগের পরিকল্পিত লিংক হিসেবে রাখা হয়েছে।

তবে ঢাকার বর্তমান অবস্থানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তার সুফল যেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ আমদানি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও যুক্ত থাকে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত