, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 87%

ডিসেম্বর ঘিরে আওয়ামী লীগের তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণঅভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম  আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা সীমিত থাকলেও আগামী ডিসেম্বরকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিদেশে অবস্থানরত দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক মিছিলের মাধ্যমে সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্ভব হয়নি।

সূত্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কয়েকটি ঝটিকা মিছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে। বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার ও সুনামগঞ্জের ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিম প্রত্যাহারের তথ্যও প্রতিবেদনে এসেছে। ওই টিমে ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ জন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, দেশের কয়েকটি জেলার নেতাকর্মীরা বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে—এমন দাবিও রয়েছে প্রতিবেদনে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন অতিরিক্ত আইজি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে বিদেশে থাকা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের যোগাযোগ থাকার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগপন্থি নেতাকর্মীদের অবস্থানের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন পেশার আড়ালে অবস্থান করছেন এবং অনলাইনে রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে সূত্রের দাবি।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাকেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর কোনো দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা থাকতেই পারে। তবে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা সংকট তৈরি হবে কি না, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির ওপর।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুমের মতে, যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আগাম তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়েও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হকের ভাষ্য, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়টি রাজনৈতিক অস্তিত্ব ধরে রাখার কৌশলও হতে পারে। তবে অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বর্তমান জনমতের প্রেক্ষাপটে দলটির জন্য দ্রুত রাজনৈতিকভাবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া সহজ হবে না।

সব মিলিয়ে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা বিভিন্ন দাবির বাস্তবতা যাচাই এবং সম্ভাব্য নাশকতার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত