, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 92%

নয় বছরেও কাটেনি রোহিঙ্গা সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা ঢলের পর বদলে গেছে পুরো জনপদের চিত্র। পাহাড় ও বনভূমির বড় অংশজুড়ে গড়ে উঠেছে বিশাল শরণার্থী বসতি। বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে ১১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও তৈরি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি চাপ। পরিবেশ, অবকাঠামো, জীবিকা ও জনসেবায় বাড়তি চাপের বিষয়টি বিভিন্ন মূল্যায়নে উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বন উজাড় ও ভূমি ব্যবহারে পরিবর্তনের পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং অনেক পরিবার জীবিকা ও জমি ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির কারণে কিছু সেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। ফলে এর প্রভাব একদিকে যেমন চাপ তৈরি করেছে, অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনও এনেছে।

অন্যদিকে দীর্ঘ নয় বছর ধরে ক্যাম্পে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন রোহিঙ্গারা। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এই জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

রোহিঙ্গাদের বড় প্রত্যাশা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। কিন্তু মিয়ানমারে নিরাপত্তা, অধিকার ও টেকসই জীবনের নিশ্চয়তা না থাকায় প্রত্যাবাসন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

নয় বছর পর রোহিঙ্গা সংকট তাই শুধু শরণার্থী সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের জীবিকা, পরিবেশ ও ভবিষ্যতের প্রশ্নও।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত