, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 86%

ইসলামাবাদে হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ১৪ নবজাতকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস—পিআইএমএস হাসপাতালের মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের একটি ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ত্রুটি বা বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় ওয়ার্ডে বেশ কয়েকজন নবজাতক ছিল। আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ১৪ শিশুর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। অন্তত একজন নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।

দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের বাইরে স্বজনদের মধ্যে দেখা দেয় চরম উদ্বেগ ও কান্নার পরিবেশ। সন্তান হারানো পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

কয়েকজন স্বজনের অভিযোগ, আগুন লাগার পর নবজাতকদের কাছে পৌঁছাতে তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা ও দরজা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়ার্ডের দরজা তালাবদ্ধ ছিল না। শিশু চুরির ঘটনা ঠেকাতে সেখানে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা ও হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, দেশটিতে হাসপাতাল ও বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ভবন বিধিমালা যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে।

এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পিআইএমএস ইসলামাবাদের অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতাল। হাসপাতালটির মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে ১৫০টিরও বেশি শয্যা রয়েছে।

নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন—হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং জরুরি মুহূর্তে উদ্ধার কার্যক্রমে কোনো ধরনের গাফিলতি হয়েছিল কি না।

সরকারি তদন্তেই এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত