
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক, বিচ্ছেদ বা দাম্পত্য কলহ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করা কেবল আইনগত নয়, এটি অভিভাবকের সাংবিধানিক, নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বও।
সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেন যে, বাবা-মায়ের পারস্পরিক বিরোধ বা বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান কোনোভাবেই সন্তানের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে না। সন্তানের খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা অভিভাবকদের বাধ্যবাধকতা।
আদালত আরও বলেন, একজন শিশু কখনোই তার বাবা-মায়ের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের শিকার হতে পারে না। পারিবারিক বিরোধের কারণে সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ রাখা বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় আদালত সবসময় সংবেদনশীল। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আদালত সন্তানের বয়স, প্রয়োজন এবং অভিভাবকের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবেন এবং সেই আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত মামলাগুলোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটি একদিকে শিশুদের অধিকার সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে অভিভাবকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিবাহবিচ্ছেদ বা দাম্পত্য কলহ ব্যক্তিগত বিষয় হলেও সন্তানের ভরণপোষণ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা থেকে কোনো অভিভাবক সরে দাঁড়াতে পারেন না। হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সেই নীতিকেই আরও সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ইতি/

