
ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত উঠে আসে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর নাম। তবে এই দুই সম্পর্কের বাইরেও তাঁর জীবনে ছিল আরেকটি গভীর প্রেমের অধ্যায়, যার কথা এতদিন প্রকাশ্যে খুব একটা জানা যায়নি। এবার সেই অজানা ভালোবাসার গল্পই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরন’-এ চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার সঙ্গে খোলামেলা আলাপচারিতায় জীবনের প্রথম প্রেমের স্মৃতিচারণ করেন শাকিব খান।
আলাপের একপর্যায়ে পূর্ণিমা পুরোনো দিনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এক সময় একজনের সঙ্গে শাকিবের গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুরুতে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করলেও পরে নিজেই সেই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন শাকিব। তিনি জানান, মেয়েটি মিডিয়ার বাইরের একজন মানুষ ছিলেন এবং গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করতেন। বিষয়টি সে সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু ও সহকর্মী ছাড়া আর কেউ জানতেন না।
শাকিব বলেন, “মনে মনে আমি তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। ওর পরিবার খুবই বনেদি ও শিক্ষিত ছিল। দেখতে যেমন সুন্দর ছিল, তেমনি আমাকেও অনেক ভালোবাসত। আমিও তাকে খুব ভালোবাসতাম।”
তিনি জানান, অভিনয়জীবনের কয়েক বছর পর তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ জীবনও একসঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি ও নানা পরিস্থিতির কারণে সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায়নি।
প্রথম প্রেমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে শাকিব বলেন, “আমি ওখানেই জীবন গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে একা বসে ভাবি, আমি যেতে চাইলাম কোথায়? ভালোবাসলাম কাকে, আর শেষ পর্যন্ত কোথায় এসে দাঁড়ালাম! কীভাবে সবকিছু বদলে গেল, আজও বুঝতে পারি না।”
পূর্ণিমা তখন মন্তব্য করেন, “মেয়েটি খুবই সুন্দরী ছিল।” এরপর তিনি জানতে চান, প্রথম প্রেমকে এখনো মিস করেন কি না। জবাবে শাকিব বলেন, “হ্যাঁ, মিস করি। তবে এখন আর কোনো যোগাযোগ নেই, করতেও চাই না। যদিও প্রায়ই তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া হয়।”
পূর্ণিমা মজার ছলে প্রশ্ন করেন, যদি সেই মানুষটি এখনো অবিবাহিত থাকেন, তাহলে কি আবার সম্পর্কের চেষ্টা করবেন? উত্তরে শাকিব বলেন, “জানি না। হতে পারে। তবে আমার মনে হয়, সে আরও ভালো কিছু ডিজার্ভ করে।”
প্রথম প্রেম ভেঙে যাওয়ার জন্য অনুশোচনা রয়েছে বলেও স্বীকার করেন এই অভিনেতা। তাঁর ভাষায়, “ভালোবাসা বেশি থাকলে ছোট ছোট বিষয় নিয়েও অভিমান হয়। হয়তো সেই কারণেই কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝতেই পারিনি। বিষয়টি নিয়ে আজও আমার অনুশোচনা হয়।”
আলাপের শেষদিকে ভাগ্যের প্রসঙ্গ টেনে শাকিব খান বলেন, “আমরা অনেকেই ভাগ্যে বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু জীবনের কিছু ঘটনা এমনভাবে ঘটে, তখন মনে হয়—কিছু বিষয় আল্লাহ তাঁর হাতেই রেখে দিয়েছেন।
ইতি/

